
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের মসজিদগুলোর মধ্যে ‘মসজিদ ওয়ালিয়াহ’ অন্যতম বৃহত্তম, আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন। এটির চমৎকার নীল-সাদা নকশা ও শান্ত পরিবেশের জন্য পর্যটকদের কাছে বেশ পরিচিতি রয়েছে। মসজিদ ওয়ালিয়াহ ‘উদ্যানের মধ্যে মসজিদ’ ধারণায় নির্মাণ করা হয়েছে। এটি কুয়ালালামপুরের জালান দুতা এলাকার কাছে মাতরাদ কমপ্লেক্সের সন্নিকটে অবস্থিত। এখানে প্রায় ১৭ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। কুয়ালালামপুরে ‘মসজিদ ওয়ালিয়াহ’ বলতে সাধারণত মসজিদ উইলাইয়াহ পেরসেকুটুয়ান (Masjid Wilayah Persekutuan) বা ফেডারেল টেরিটরি মসজিদকে বোঝানো হয়ে থাকে। এটি নগর সীমানায় সরকার কর্তৃক নির্মিত ৪৪তম মসজিদ।
মসজিদ ওয়ালিয়াহ ষোড়শ শতাব্দীর অটোমান ও ঐতিহ্যবাহী মালয় নির্মাণশৈলীর সংমিশ্রণে নির্মিত হয়েছে। এটির নির্মাণশৈলী তুরস্কের ইস্তাম্বুলের নীল মসজিদ দ্বারা প্রভাবিত। যেখানে কাচের ফাইবার ও ইপোক্সি রেজিন দিয়ে তৈরি ২২টি গম্বুজ এবং নীল-সাদা নকশা আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নীল রঙের গম্বুজগুলোর জন্য মসজিদটি ‘কুয়ালালামপুরের রত্ন’ হিসেবেও পরিচিত। চ্যাঙ্গাল কাঠ ও স্থানীয় খোদাইশিল্পের সমন্বয় মসজিদকে করেছে অনন্য। অন্দরসজ্জায় মরক্কো, পারস্য ও মালয় কারুকার্যের সমন্বয় ঘটেছে।

মসজিদ ওয়ালিয়াহ’ ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছে। ২০০০ সালের ২৫ অক্টোবর সাধারণের ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটি শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বাদে সাধারণত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। কুয়ালালামপুর শহরের যেকোনো স্থান থেকে এই মসজিদে পৌঁছাতে গ্র্যাব ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। অমুসলিম দর্শনার্থীদের জন্য মসজিদে প্রবেশের সময় উপযুক্ত শালীন পোশাক পরিধান করতে হয়। প্রয়োজনে শালীন পোশাক মসজিদ থেকে সরবরাহ করা হয়। পর্যটকদের জন্য বিনা মূল্যে গাইড ট্যুরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এখানে কোনো প্রবেশ ফি না থাকলেও অনুদান গ্রহণ করা হয়।







