
মালয়েশিয়ার দুইবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কাকতালীয়ভাবে, তার ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী ও স্ত্রী ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর মাত্র এক দিন পরেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ফলে ১০১ বছর বয়সি এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) ভর্তি করা হয়। তার স্ত্রী ড. সিতি হাসমাহও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মাহাথিরকে ঠিক কী কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তার দীর্ঘদিনের সহকারী সুফি ইউসুফ সাংবাদিকদের জানান, তারা চিকিৎসকদের চূড়ান্ত নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা বারনামাকে মাহাথিরের ছেলে মোখজানি বলেন, ‘পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে আইজেএন-এ ভর্তি করা হয়েছে। গত দুই দিন বাবার ওপর দিয়ে বেশ মানসিক চাপ গেছে। তবে তিনি এখন ঠিক আছেন এবং এই মুহূর্তে আশঙ্কার কিছু নেই।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে মালয়েশিয়ার আধুনিক রূপকার হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজ বাড়িতে পড়ে গিয়ে ডান পায়ের নিতম্বের হাড়ে (হিপ বোন) চিড় ধরায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন তিনি। বয়সের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বর্তমানে তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করছেন।
এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে ১০০তম জন্মদিন উদযাপনের পর শারীরিক ক্লান্তির কারণে এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফুসফুসের সংক্রমণের জন্য তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। ১৯৮৯ ও ২০০৭ সালে মাহাথিরের দুটি বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে পাহাংয়ের সুলতান আবদুল্লাহ আহমেদ শাহের সঙ্গে আলাপকালে মাহাথিরকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে আজ তাকে এভাবে হারিয়ে ফেলব।’
বিতর্ক ও সাফল্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী এই ব্যক্তিত্ব ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তার প্রথম মেয়াদে কৃষিপ্রধান মালয়েশিয়াকে একটি শক্তিশালী শিল্পোন্নত দেশে রূপান্তর করেন।
উন্নত মহাসড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি এবং শক্তিশালী উৎপাদন খাত গড়ে তোলার পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল।
এ ছাড়া, ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে এশীয় আর্থিক সংকটের সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্রত্যাখ্যান করে মালয়েশিয়ার মুদ্রা ‘রিঙ্গিত’-কে মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট করে দিয়ে দেশকে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করার কৃতিত্বও তাকে দেওয়া হয়।
তবে তার শাসনামলে ভিন্নমত দমনের কঠোর সমালোচনা রয়েছে। প্রথমার্ধে ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘অপারেশন লালাং’-এর অধীনে ১০০ জনেরও বেশি বিরোধী রাজনৈতিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে তার তৎকালীন ডেপুটি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হলে দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে আনোয়ারকেও কারাদণ্ড দেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেসময় বেশ বিতর্ক তৈরি করেছিল।







