
ম্যাচের আগের রাতে টিম হোটেলে গিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। মাঠে সাহসিকতা দেখাতে বলেছিলেন, অথচ সেই তিনিই কিনা ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পুরো ম্যাচ শেষ না করে মাঠ ছেড়ে হোটেলে ফিরে যান! ভারতের কাছে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর টিম মিটিংয়ে নাকভির উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা উঠেছে।
শোয়েব আকতার তো ভারতীয় এক টিভি চ্যানেলে ধুয়ে দিয়েছেন নাকভিকে, ‘দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় অপরাধ কোনটি জানেন? একজন অদক্ষ ব্যক্তিকে বড় দায়িত্ব দেওয়া। আপনি যখন অদক্ষ ও অজ্ঞ ব্যক্তিকে বড় দায়িত্ব দেবেন, সে তখন দেশ ধ্বংস করে দেবে। উদাহরণ তো সামনেই আছে…।’ শোয়েবের মতে, মাঠের বাইরে ক্রিকেট নিয়ে নাকভির বাড়াবাড়ি আদতে ক্রিকেটেরই ক্ষতি হয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তানের জাতীয়, বয়সভিত্তিক, নারী ক্রিকেট মিলিয়ে ভারতের সঙ্গে ছয়বারের দেখায় সবকটিতে হেরেছে। শুধু গত বছর রাইজিং এশিয়া কাপে ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান।
শোয়েবের মতো পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও নাকভির নাম উচ্চারণ না করে এক্স হ্যান্ডেলে পাকিস্তান ক্রিকেটে রাজনৈতিক প্রভাবের নেতিবাচক দিকের কথা লিখেছেন, ‘যতদিন আমরা পাকিস্তান ক্রিকেটকে রাজনীতির প্রভাব ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ থেকে মুক্ত না করতে পারি, ততদিন আমরা সে সময়ে ফিরতে পারব না, যে সময় আমরা আধিপত্য দেখাতাম। আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্ধকার এক সময় পার করছি। কিছু ব্যক্তিকে অবশ্যই দল ও অফিস থেকে বের করতে হবে।’
ইউসুফের সঙ্গে একমত শহিদ আফ্রদিও। এই দল থেকে বাবর, শাদাব, এমনকি তাঁর মেয়েজামাই শাহিন শাহকেও বাদ দিতে বলেছেন। ‘বাবর, শাহিন আর শাদাব বারবার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিবারই আমরা মনে করি, তারা বড় দলের বিপক্ষে পারফর্ম করবে; কিন্তু তারা পারছে না। এদের বদলে তরুণদের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
পাকিস্তানি একটি টিভি চ্যানেলে রীতিমতো ক্ষোভ ঝাড়েন আফ্রিদি। রমিজ রাজাও তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে মনে করিয়ে দেন, দু-তিন বছর ধরে এই ব্যাটাররাই দলকে ডুবিয়েছে ভারতের সামনে। আহমেদ শেহজাদের মতো সাবেকরা একাদশে দ্রুত তিনটি পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। যেখানে বাবরের জায়গায় ফখর জামান, শাদাবের জায়গায় খাজা নাফি আর শাহিনের জায়গায় মির্জা সালমানকে খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সাবেক অধিনায়ক কামরান আকমল ভারত ম্যাচে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগার সমালোচনা করেছেন। ‘এমন অধিনায়কত্ব আমি কখনও দেখিনি, যেখানে ফাহিম আশরাফকে একটি ওভার বোলিং করানো হলো না, আফ্রিদিকে মাঝের ওভারে আনা হলো না, এমনকি ঈশান কিশানকে থামানোর জন্যও উসমান তারিককে আনা হলো না।’
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান দলের কিউই কোচ মাইক হেসন স্বীকার করেছেন, ব্যাটিংয়ে তাদের ভুল হয়েছিল। এটাও বলেছেন, কলম্বোর পিচে অন্তত ২৫টি রান বেশি দিয়েছিল তারা ভারতকে। তবে এসব অজুহাতে মন গলছে না পাকিস্তানের সাবেকদের। তাদের দাবি, দলের তিনি সিনিয়র বাবর, শাহিন আর শাদাবকে বসিয়ে নতুন সেটআপ খেলাতে হবে। সেই সঙ্গে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির নাক গলানোটা কমাতে হবে।







