গাইবান্ধা জেলার কঞ্চিপাড়া এলাকার ভাষারপাড়ার মোঃ বেলাল হোসেন। দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া বেলাল হোসেন বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেনি। কিন্ত, তার আদম্য উদ্যাম তাকে থেমে রাখতে পারেনি। কৃষিই বাপ-দাদার পেশা হওয়ায় কৃষিতেই ‘চমক’ দেখিয়েছেন তিনি।
বেলাল হোসেন বলেন, ‘দরিদ্র কৃষক পরিবারেই আমার জন্ম। লেখাপড়া করার ইচ্ছে থাকলেও সুযোগ পাইনি। আর সে কারণেই, বলতে গেলে জন্মের পর থেকেই কৃষি কাজ করি। বর্তমানে ২৫ বিঘা জমি চাষাবাদ করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক বছর আগে এখানকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এসএসিপি- রেইনস প্রকল্পের আওতায় একটি সবজি ফসলের গ্রুপ গঠন করি। প্রকল্পেরর আওতায় উপজেলা কৃষি অফিস হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বিভিন্ন প্রকার সবজি আবাদ শুরু করি। এজন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সহায়তা পেয়েছি।’
‘গত ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে আমি ১৫০ মেট্রিক টন টমেটো ও ১০০ মেট্রিক টন ব্রোকলি এবং ২০ মেট্রিক টন বেগুনি রঙ্গের বাঁধাকপি উৎপাদন করি। এসব উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করে কয়েক লক্ষ টাকা লাভ করেছি।’
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মিন্টু মিয়া বলেন, ‘বেলাল হোসেন একজন সফল সবজি চাষি। কৃষি কাজ করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পার্শ্ববর্তী উপজেলার চাহিদাও পূরণ করছেন। তার নতুন সবজি উৎপাদন দেখে অনেক কৃষক সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’
‘মান সম্পন্ন সবজি উৎপাদন করায় বাজারে সহজ লভ্য হয়েছে ও কৃষক ভালো মানের সবজি পাচ্ছেন, যার মাধ্যমে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি দেশের সবজি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে’, বলেও জানান তিনি।
এসএসিপি- রেইনস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. মুহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ‘গত বছর বেগুনি রঙ্গের বাঁধাকপি চাষ করে বেলাল হোসেন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রঙ্গিন বাঁধাকপিতে রোগবালাই তেমন হয় না এবং এর ফলনও বেশ ভালো যার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’
প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ জলবায়ু পরিবর্তনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাহিদাভিত্তিক উচ্চমূল্য পুষ্টি সমৃদ্ধ ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ফসল চাষে বৈচিত্র্য আনায়ন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, নারী ও যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।
প্রকল্পের মূল ফোকাসসমূহঃ ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষী কৃষক বিশেষত: নারী ও যুবকদের সংগঠিত করা ও উচ্চমূল্য পুষ্টি সমৃদ্ধ ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণ; সদস্যদের নিজস্ব মূলধন সৃষ্টি ও তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ; উচ্চমূল্য ফসল চাষের লক্ষ্যে মানব সম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান; আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং দারিদ্রদ্র্য হ্রাসকরণ; সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন সহায়তা প্রদান; মার্কেট লিংকেজ স্থাপন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা।
প্রকল্প কার্যক্রমে জেন্ডার সমতা ও গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কৃষিতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি; এছাড়াও প্রকল্পে লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষত নিউট্রিশন, ফুড সেইফটি, ইয়ুথ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অভিযোজন কলাকৌশল নিয়েও সচেতন করা হয়।







