ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়া মাত্রই একাডেমিক কাজের চেয়ে প্রশাসনিক পদ পাওয়ার দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।
সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন ফেসবুক পোস্টে বলেন, “বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়া মাত্রই একাডেমিক কাজের চেয়ে প্রশাসনিক পদ পাওয়ার দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। শুরু হয় হাউস টিউটর দিয়ে। এরপর ডীন, প্রভোস্ট ইত্যাদি পদের জন্য দৌড় ঝাঁপ আর সাথে শুরু হয় ভিসি হওয়ার স্বপ্ন দেখা। আমি খুব কম শিক্ষকের মাঝেই ভালো শিক্ষক, ভালো গবেষক হওয়ার স্বপ্নকে লালন করতে দেখেছি। এমন দেশ কোথায় পাবেন যেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভিসি, প্রোভিসি, ইউজিসির চেয়ারম্যান, মেম্বার, পিএসসির চেয়ারম্যান, মেম্বার ইত্যাদি হওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে?”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের অসীম ক্ষমতা দেওয়া। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের জন্য আলিশান বাংলো বাড়ি দেওয়া। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রোভিসিদের নেতৃত্বে সকল বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড গঠন করা। ভিসি বা প্রোভিসি ইতিহাসের শিক্ষক হয়েও তিনি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের নেতৃত্ব দেন।”
ভিসি পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক মামুন লেখেন, “ভিসি একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব। ভিসি কি করে শিক্ষক নিয়োগের বা প্রমোশনের যেই বোর্ড হয় তার নেতৃত্ব দেন? পৃথিবীর কোন দেশের ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলুনতো। পৃথিবীর কোন দেশের ভিসিদের দৈনিক কর্মকান্ড সেই দেশের প্রধান প্রধান পত্রিকার শিরোনাম পর্যন্ত হন। দেখেন অক্সফোর্ড হার্ভার্ড এমআইটি কেমব্রিজ ক্যাম্পাসে। জিজ্ঞেস করুন সেখানকার শিক্ষার্থীদের তারা তাদের ভিসির নাম জানে কিনা। শতভাগ নিশ্চিত প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী নামও বলতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের অসীম ক্ষমতা হলো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার আঁতুরঘর। যেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থাকে সেই দেশের সরকার স্বৈরাচার হবেই। ভিসিদের ক্ষমতা কমালে ভিসি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ কমে যাবে। যেকোন সিস্টেমে ক্ষমতা যদি এক বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত থাকে সেই সিস্টেম কখনোই ভালো করবে না। ভিসি একটি প্রশাসনিক পদ তাই তাদেরকে সকল একাডেমিক কাজ বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন পদ্ধতি থেকে বাদ দেন।”
পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, “সকল ক্ষমতা এক বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত থাকার কারণেই সরকারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ। সরকার মনে করে একজনকে নিয়ন্ত্রণ করলেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এই এক কেন্দ্রিক ক্ষমতার ছিদ্র দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিক্ষকের যেই অশুভ রাজনীতি সেইটা ঢুকে। পৃথিবীর কোন দেশের ভিসিদের এত ক্ষমতা? পৃথিবীর কোন দেশের ভিসিরা এত সংবাদ শিরোনাম হয়? গরিব দেশের ভিসিদের বাসা কেন এত রাজকীয় হতে হবে? এইসব লোভের টপ দিয়েই সরকার শিক্ষকদের শিক্ষক রাজনীতিতে নামায়।”







