রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় গো-খাদ্যের সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। সংকট থাকায় অনেকেই শখের গরু বিক্রি করে দিচ্ছে। আবার কেউ নিরুপায় হয়ে দুর-দুরান্তর থেকে গো-খাদ্য হিসেবে খড় সংগ্রহ করছে। আবার অনেকেই সিজিনাল ব্যবসা হিসেবে তা বিক্রি করছে চড়া দামে । এ অবস্থায় গো-খাদ্য নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে গরুর খামারীরা ।
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, গরু খামারীসহ গবাদী পশু পালনকারী কৃষকরা স্থানীয়ভাবে যে ঘাস সংগ্রহ করছেন তা অপ্রতুল । খড় নেই বললেই চলে । অনেক ব্যবসায়ী দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে খড় সংগ্রহ করে পীরগঞ্জের হাটবাজার এবং গ্রামে বিক্রি করলেও দাম বেশ চড়া । দু’মাস পুর্বে খড়ের যে আটির মুল্য ছিল ৪ টাকা তা এখন ১০ টাকা । এ ছাড়া এখন কেজি দরেও খড় বিক্রি হচ্ছে ।
উপজেলার জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকার খড় ব্যবসায়ী মোকছেদুল ইসলামের মতে, দিনাজপুর এলাকার খড় ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে ৫৫০ টাকা মণ দরে খড় ক্রয় করছেন। পীরগঞ্জে প্রতিমন মণ ৬২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এলাকায় মানুষের চাহিদার কারনে দূর থেকে খড় নিয়ে আসেন। অনেকেই খড়ের ব্যবসা অনেকেই করতে চায় না। কারন এখানে অনেক শ্রমের প্রয়োজন হয়।
পীরগঞ্জ কৃষি বিভাগের মতে, উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গো-খাদ্য খড় সংকট হতো না। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ধান কর্তন ও মারাই এর কারনে কৃষকেরা খড় প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন । সেই কারনে গো-খাদ্য খড়ের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জে নিবন্ধিত ৪৫ সহ ১৩৫০ টি গাভীর খামার রয়েছে। খামারিদের সংখ্যা ৩ হাজার ৫ শত ২৩ টি । সব মিলে গরুর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজার। বিগত সময়ে বোরো ধান ঘরে উঠার আগে বর্ষা হয়েছিল। পানিতে খড় পচে নষ্ট হয়ে গেছ। যে কারনে খড়ের সংকট দেখা দিয়েছে।







