
সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিকে ‘প্রহসন’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির দাবি, গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। একইসঙ্গে তথাকথিত সংশোধন কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা। কমিটির গঠন, কার্যক্রম কিংবা সুপারিশ কোনোটিই জাতীয় ছাত্রশক্তি স্বীকার করে না।
তাদের দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের মানুষ স্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ৪ কোটি ৭২ লাখেরও বেশি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তাঁদের এই সম্মতি ছিল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর পক্ষে। ওই আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান পরিবর্তনের পথ সংবিধান সংস্কার পরিষদ। কোন প্রক্রিয়ায় সংবিধান পরিবর্তন হবে, তা জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষির সুযোগ নেই বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে ক্ষমতাসীন দল সংসদে একটি ‘সংশোধন কমিটি’ গঠন করেছে। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, জনগণ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিলে সংশোধন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত এল কোথা থেকে? তাঁদের মতে, গণরায়ের জায়গায় দলীয় সুবিধা অনুযায়ী কাটছাঁট চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কমিটিতে কারা আছেন, কতটি বৈঠক হয়েছে কিংবা কী প্রস্তাব এসেছে, এসব জাতীয় ছাত্রশক্তির বিবেচ্য নয়। যে কাঠামোর ভিত্তিই গণরায় বিরোধী, সেই কাঠামোর ভেতরের আলোচনায় সংস্কার হতে পারে না। ‘ভুল ঘরে বসে সঠিক সংবিধান বানানো যায় না’ বলেও মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় ছাত্রশক্তির তিন দফা দাবি হলো- তথাকথিত সংবিধান সংশোধন কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং এর কোনো সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধনী বিল আনা যাবে না; গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে; এবং সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও স্পষ্ট করেছেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি এই কমিটির কোনো মতবিনিময়, শুনানি বা পরামর্শে অংশ নেবে না।







