
প্রচলিত উন্নয়ন ঋণের পাশাপাশি বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দক্ষিণ কোরিয়া সফরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিউলে এসব আলোচনা হয় বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (কেএক্সিম) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোয়াং কিয়েওনের সঙ্গে বৈঠকে ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদের ৩ বিলিয়ন ডলারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) কাঠামো নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এ কাঠামোর আওতায় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের বিষয়টি আলোচনা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইডিসিএফের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে বলে কেএক্সিম জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ অবশিষ্ট ইডিসিএফ অর্থ ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি এআই, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো নতুন খাতে সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুহের সঙ্গে বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তাপুষ্ট ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে কোরিয়ার চলমান কারিগরি সহায়তাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে এ উদ্যোগের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে কোরিয়ার আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। কোরীয় পক্ষ এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।







