সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন পদ্ধতি সংযোজন পরিবেশ দূষণ কমায়, সেইসাথে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে যা অপচয় কমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
এই পদ্ধতিগুলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুবিধা দেয় যা ব্যবসায়ীক গতিশীলতা বাড়ায়।
সোমবার জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা(ইউনিডো) আয়োজনে ‘রিসোর্স ইফিশিয়েন্ট এন্ড ক্লিনার প্রডাকশন (আরইসিপি)’ প্রোগ্রামে আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।
উদ্বোধনী সেশনটির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি। তিনি শিল্পখাতে টেকসই ও সম্পদ-দক্ষ পদ্ধতি গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন,’সম্পদ-দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া আর কোনো বিকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের টেকসই শিল্পোন্নয়নের একটি অপরিহার্য শর্ত।’
ইউনিডো বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. জাকী উজ জামান বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চাই, যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল এবং বৈশ্বিক টেকসই মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।’
এছাড়াও তিনি শিল্পখাতে বৃত্তাকার অর্থনীতির নীতিমালা অগ্রসর করতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রিসোর্স এফিশিয়েন্ট অ্যান্ড ক্লিনার প্রোডাকশন (RECP) বা সম্পদ-দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন পদ্ধতি সংযোজনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধ প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের যৌথ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে সরকার ও শিল্পখাত একসঙ্গে কাজ করে পরিবেশ সংরক্ষণ করতে পারে এবং একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে পারে।’
***আরইসিপি যেভাবে কাজ করে:
এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে বর্জ্য হ্রাস করা এবং কাঁচামাল ও শক্তির ব্যবহার কমানো যায়। উৎপাদিত পণ্যটুর ডিজাইন এমনভাবে করা হয় যাতে এটি কম বর্জ্য তৈরি করে যার ফলে রিসাইকেল করা সহজ হয়। পদ্ধটিতি গ্রহণ করার ফলে পরিবেশগত দূষণ কমে যায়।
***কী কী সুবিধা:
রিসাইক্লিং ও আরইসিপি বিশেষজ্ঞ ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) মাহবুল ইসলাম বলেন, ‘বর্জ্য ও দূষণ কমে যাওয়ার কারণে পরিবেশ দূষণ কমে যায়। উৎপাদনে খরচ কম ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অর্থনৈতিক লাভ হয়। স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ পদ্ধতির কারণে কর্মক্ষেত্র আরও গতিশীল হয়।’
***প্রশিক্ষণের শিল্প-কারখানা পরিদর্শনে হাতে-কলমে শিক্ষা:
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনর রবিবার ছিল ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা শিল্প পরিদর্শন। প্রশিক্ষনের জন্য বাছাই করা ছিল গাজীপুরের টঙ্গিতে অবস্থিত আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর এ-ওয়ান পলিমার লিমিটেড পরিদর্শন।
পরিদর্শনের জন্য সকাল সাড়ে ৯টায় বনানীর হোটেল অ্যারিস্টোক্র্যাট ইন-এ ব্রিফিং শেষে সকাল টঙ্গীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে প্রায় ১১টার দিকে পৌঁছাই এ-ওয়ান পলিমার লিমিটেডে।
সেখানে পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সেশনে ট্রেনিংয়ের নির্দেশিকা মোতাবেকে সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। ওই তথ্য ও পর্যবেক্ষণের আলোকে শেষ দিনের সেশনে বিশ্লেষণ করে একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
সেখানে পরিদর্শনে যান চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি মার্শাল লিমিটেডের এসির্স্ট্যান্ট ম্যানেজার রতন সেন। তিনি তার নিজ কর্মস্থল থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ট্রেনিং করতে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কারখানার হায়ার লেভেল থেকে মিড লেভেলের কর্মকর্তাদের ট্রেনিং দেওয়া দরকার। সেই সাথে কমপ্লায়েন্স মেইনটেইন করে যেসব ফ্যাক্টরী চলে সেগুলো ভিজিট করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ভিজিট করার ফলে ওই কোম্পানি কিভাবে কমপ্লায়েন্স মেইনটেইন করে ফ্যাক্টরি চালায় সেসব দেখে অভিজ্ঞতা নেওয়া দরকার। এর ফলে আমরা নিজেদের কোম্পানীকে পজেটিভ ইম্প্রুভ করতে করতে পারি।’
অতিথীরা প্রতিষ্ঠানটির সুশৃঙ্খল পরিচালনায় মুগ্ধ হন।








