রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উৎসাহ বোনাসে ‘অযাচিত উদারতা’ বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে বছরে সর্বোচ্চ তিনটি উৎসাহ বোনাস দেওয়া যাবে এবং তা অবশ্যই নিট মুনাফার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নির্দেশনা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বোনাস প্রদান করে আসছিল। যেমন—২০২৩ সালে সোনালী ব্যাংক নিয়ম অমান্য করে পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মীদের কাছ থেকে বাড়তি দুই বোনাস ফেরত আনার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এরকম অনিয়ম ঠেকাতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে—
- নিট মুনাফা গণনা করতে হবে পরিচালন মুনাফা থেকে প্রভিশন বাদ দিয়ে।
- বোনাস প্রদানে পারফরম্যান্স সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের সূচক
সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল বোনাস নির্ধারণ করবে ৫টি সূচকের ওপর— চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হার; আমানত বৃদ্ধির হার; ঋণ ও অগ্রিম বৃদ্ধির হার; খেলাপি ঋণ আদায়ের হার; অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের হার;
বিশেষায়িত ব্যাংকের সূচক : বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাকাব, কর্মসংস্থান ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই ধরণের সূচক প্রযোজ্য হবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সূচক: আইসিবি: মুনাফার হার, বিনিয়োগের লভ্যাংশ অর্জন, খেলাপি ঋণ আদায়, বাজার লেনদেন বৃদ্ধি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়। বিএইচবিএফসি: মুনাফার হার, প্রকৃত ঋণ আদায় ও ঋণ-বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার।
বোনাস প্রাপ্তির মানদণ্ড
- ৪০-এর নিচে নম্বর -কোনো বোনাস নয়
- ৪০–৫০ – ১টি বোনাস
- ৫০–৬০ – ১.৫ বোনাস
- ৬০–৭০ – ২টি বোনাস
- ৭০–৮০ – ২.৫ বোনাস
- ৮০-এর বেশি – ৩টি বোনাস
একটি বোনাস বলতে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থকে বোঝানো হয়েছে।
যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুযায়ী বোনাস না পায়, তবে বিশেষ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশে সর্বোচ্চ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এক্স-গ্রেসিয়া হিসেবে অনুমোদন দিতে পারবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, এই নতুন নির্দেশনা মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বোনাস প্রদানের সংস্কৃতিকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনবে। অতীতে নির্বিচারে বোনাস প্রদানের ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো কর্মীদের পারফরম্যান্সনির্ভর প্রণোদনা দেবে, যা একদিকে সুশাসন জোরদার করবে, অন্যদিকে খেলাপি ঋণ আদায় ও মুনাফা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি করবে।







