
জাপানের এক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে জীবনের প্রথম চাকরিটা শুরু করেছিলেন এক রিয়েল এস্টেট বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু দ্রুতই চাকরি করাটা খুব কঠিন হয়ে যায়। প্রায়ই সহকর্মীদের বকুনি বা চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে হতো তাকে।
কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। টোকিও-ভিত্তিক শ্রম ও মানবসম্পদ বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লিডব্রেইন-কে তিনি জানান, সহকর্মীরা তাকে কেমন দৃষ্টিতে দেখছেন বা তার সম্পর্কে কী ভাবছেন বুঝতে না পেরে একসময় নীরবে চাকরি ছাড়ার পথ খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু চাকরি ছাড়লেও এমনভাবে ছাড়তে চাচ্ছিলেন যাতে সহকর্মীদের সঙ্গে সংঘাত এড়ানো যায় এবং তার বাবা-মাও দুশ্চিন্তায় না পড়েন। তাই সরাসরি পদত্যাগপত্র জমা না দিয়ে এমন এক প্রক্সি বা মধ্যস্থতাকারী সংস্থার খোঁজ শুরু করেন, যারা নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছাড়াই তাকে চাকরি ছাড়তে সহায়তা করতে পারবে।
বাক্কুরে : না জানিয়ে চাকরি ছাড়া, কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়
জাপানে কোনো নোটিশ না দিয়ে কর্মস্থল থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়াকে বলে ‘বাক্কুরে’৷ বিষয়টি অনেকেটা ডেটিংয়ের জগতে প্রচলিত ‘ঘোস্টিং’-এর মতো। বিশ্বের অনেক দেশে কোনো নোটিশ ছাড়া চাকরি ছেড়ে দেওয়াকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মনে করা হলেও জাপানিদের কাছে বিষয়টা একটু অন্যরকম। জাপানে এভাবে কর্মস্থল থেকে উধাও হয়ে যাওয়া সরাসরি সংঘাত এড়ানোর এবং অন্তত বাহ্যিকভাবে হলেও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার একটি উপায়।







