রংপুরের পীরগঞ্জে কৃষি পল্লীর মাঠজুড়ে ঘন সবুজের সমারহ! সেখানকার মাঠগুলোতে আগাম জাতের ধান বাতাসে দোল খাচ্ছে,কিছু কিছু জায়গায় সেই ধান পাকতেও শুরু করেছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, যারা আগাম জাতের ধান চাষ করেছে সেসব ধান পাকতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও তা কাটতেও দেখা যাচ্ছে। মুলত: আগাম রবিশস্য চাষের জন্য কৃষকেরা আগাম জাতের ধান লাগিয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা উৎসাহিত হয়েছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, রোপা আমন চলতি মৌসুমে ২৫ হাজার ৫ শত ৩৫ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৭৫, বিনা ধান ১৭, বিনা ধান ৭, ব্রি ধান ৮৭ এবং হাইব্রিডসহ ১২ টি জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার পৌরসভাসহ ১৫ টি ইউনিয়নে পুরো মাঠ জুড়ে পুরো দমে আগাম জাতের ধান পেকে গেছে। চাষীরা আগাম জাতের ধানের ফলন ভাল পাচ্ছে। তাই কৃষি মাঠে পাকা ধানের সুগন্ধ আর ভাল ফলন পাওয়ায় হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।
কৃষি পল্লী এলাকা ঘুরে ধান চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অল্প সময়ে ফলন বেশি এবং কম খরচে আগাম জাতের ধান রোপণ করে ভালো ফলন পাবার সফলতার মুখ দেখছেন চাষিরা। আগাম ধান কেটে আগেভাগে সরিষা, আলু এবং সবজি চাষ করবে মাঠে। তবে অনেকেই ধারণা করছেন এ বছর ধানের ফলন ভালো হবে।
ধান চাষি জয়পুর গ্রামের মেহেদুল মিয়া, তসের মিয়া, মিঠিপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন, হোসেনপুর গ্রামের তাহের মিয়া জানান, তারা প্রতিবছর আগাম জাতের ধানের চাষাবাদ করে থাকেন। বৃষ্টি পানির অপেক্ষায় না থেকে শুরুতেই সেচ পাম্পের পানি সেচ দিয়ে এই ধানের চাষ করে। তারা ইতিপূর্বেও লাভবান হয়েছে। এতে করে ধান কাটা শ্রমিকের সংকট হয়না। গোখাদ্য খড় ব্যবসায়ীরা জমি থেকে ধান কাটা মারা করে ঘরে উঠিয়ে দেয়, খরচ অনেক কম হয়। তাছাড়া নতুন ধানের চাল বাজারেও অনেক চাহিদা রয়েছে।
জানা গেছে, আবাদি জমি গুলো দ্রুত তেলজাতীয় ফসলের আবাদ করতে পারবে তারা। বর্তমানে কৃষকদের মাঝে এ ধান চাষের ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে আগাম জাতের ধরনের উপর পাখি এবং ইদুরের উৎপাত বেশি। বাবুইসহ কয়েক প্রকারের পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে খেতে এসে আহার করে। যে কারণে বাড়তি খরচ করে জমির উপর জাল টানিয়ে দিতে হয়।
এ অঞ্চলের কৃষক অনেকটাই শ্রমজীবী কর্মমুখি তারা শ্রম দিয়ে মাটিতে ফসল ফলিয়ে থাকেন। চাষাবাদে কৃষক সফল এবং উপজেলায় সবধরনের ফসল চাষের উপযোগী বলে তারা বলছেন।
কৃষি শিক্ষক সুমন মিয়া ও আখতার হোসেন বলেন, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার বোরো পতিত রোপা আমন শস্য বিন্যাসে সরিষা ফসল চাষাবাদে বিগত বছর থেকেই কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এজন্য স্বল্প মেয়াদী ধানের জমিতের আগাম চাষাবাদ, বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে সম্পুরুক সেচের মাধ্যমে সঠিক সময়ে আমন ধানের রোপন করেন চাষিরা। ফলস্বরূপ একদিক যেমন আগাম রোপা আমন ধান ফসলের স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি। অন্যদিকে উপজেলায় সরিষা সহ তেল জাতীয় ফসলের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ধান চাষের শুরু থেকেই বৃষ্টি চাষিদের পক্ষে ছিল এ জন্য কৃষকের চাষাবাদে খরচ কম হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন আহমেদ জানান।
তিনি বলেন, বীজ সার প্রণোদনাসহ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাষিদেরকে সহায়তা করছে কৃষি বিভাগ। পৌরসভা এবং সকল ইউনিয়ন গুলোতে আমাদের লোকজন বেশি ফলন এবং পোকা দমনের জন্য বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।







