
দিন কয়েক আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতির বেশ ইতিবাচক ও উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেছেন। বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে তার প্রশাসনের অবদান নিয়েও নানা অতিরঞ্জিত দাবি তুলে ধরেন তিনি। তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়ানো সত্ত্বেও, নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নেতৃত্বাধীন ইউএস ফেডারেল রিজার্ভও দেশটির অর্থনীতির স্বাস্থ্য নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। তবে বাস্তবে কিন্তু মার্কিন অর্থনীতির চিত্রটা অতটা ঝলমলে নয়। অনেক বিশেষজ্ঞ পুঁজিবাজারে ধস এবং পুরো বিশ্বকে গ্রাস করার মতো এক অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাসও দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির জন্য অন্যান্য আরও কিছু পরিস্থিতির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের লিবারেশন ডে শুল্ক চালুর পর থেকে এক দিনে মার্কিন বন্ড বাজারে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে গত মাসের শেষ দিকে। ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা মুনাফার হার পৌঁছে যায় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশে, যা ২০০৪ সালের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক বন্ডের ইয়েল্ডও গত ১৯ বছরের মধ্যে শীর্ষে ওঠে। সাধারণত বন্ডের দাম পড়লেই এই ইয়েল্ড বাড়তে থাকে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তার দেশ কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাথা নত করবে না। দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ যে শিগগিরই মিটছে না, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের পর তা স্পষ্ট হয়ে ওঠায় মার্কিন সরকারি বন্ডের ক্ষেত্রে এই নতুন প্যানিক সেলিং বা আতঙ্কিত হয়ে বিক্রির হিড়িক পড়ে। এর সাথে আবার যুক্ত হয়েছে গত আগস্টে মার্কিন মোট ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা। পাশাপাশি পরিষ্কার হচ্ছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অর্থনীতি যে শক্তি পেয়েছে তার বড় অংশই এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে অস্বাভাবিক বিনিয়োগের ওপর ভর করে। এসব ঘটনার সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞের সতর্কবার্তাকে একত্র করলে, স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে আমরা এক আসন্ন ও ভয়াবহ বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।
আবারও কি অর্থনৈতিক মন্দা?
ঠিক ১৮ বছর আগের এই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ব্যাংকিং জায়ান্ট লেহম্যান ব্রাদার্সের পতন ঘটেছিল, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে ঠেলে দিয়েছিল এক গভীর মন্দার মুখে। লেহম্যানসহ অন্যান্য ব্যাংকগুলোর যত্রতত্র দেওয়া হাউজিং লোনের ফলে সৃষ্ট ক্রেডিট সংকট বা ঋণসংকটের জের ধরেই ওই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। ২০০৭-০৮ সালের সেই মহামন্দার পূর্বাভাস দেওয়া মার্কিন অর্থনীতিবিদ ডেভিড রজেনবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, আমরা আবারও একটি মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ফেড সুদের হার বাড়ানোর পর তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ২০২২ সালে মার্কিন গ্রাহকদের হাতে নগদ ২ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা ছিল। ওই একবার ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কার মুখে সুদের হার বাড়িয়ে ফেড কখনো মন্দা এড়াতে পেরেছে, এমন একটি নজিরও নেই।
রজেনবার্গ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের দিকেই ইঙ্গিত করছেন। কেউ কেউ হয়তো বলবেন যে, তার এই সতর্কবার্তাকে অতটা গুরুত্ব না দিলেও চলে, কারণ মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আসছেন। তবে ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যে প্রায়শই অর্থনৈতিক মন্দার আগাম বার্তা হিসেবে কাজ করেছে, সে সত্যকে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। তেলের দাম বাড়লে মানুষের হাতে খরচের জন্য অতিরিক্ত টাকা কমে যায়, যার ফলে বাজারে মন্দা তৈরি হয়। একই সাথে এটা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়, ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাধ্য হয়ে সুদের হার বাড়ায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেশি। গত মাসের শেষদিকে বন্ড বাজারে যে বড় ধরনের পতন ঘটেছে, তার পেছনেও কাজ করেছে ফেড গভর্নর মাইকেল বারের এক মন্তব্য। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামনে সুদের হার আরও বাড়ানো লাগতে পারে। আর তেমনটি হলে তা মানুষের কেনাকাটার সামর্থ্য কমিয়ে দেবে এবং প্রবৃদ্ধির গতি থমকে দেবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ ডলার বেশি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দ্রুত না মিটলে তেলের দাম ১৪০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালন প্রতি ৪ ডলার থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে; যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। পেট্রোলের দামও ৩ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় সাড়ে ৪ ডলার ছুঁয়েছে। ট্রেন, কৃষিকাজ আর বাণিজ্যিক যানবাহন ডিজেলেই চলে, তাই এর সরাসরি চাপ পড়েছে সাধারণ আমেরিকানদের ওপর। অনেক শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা ডিজেল রপ্তানি বন্ধের দাবি তুলছেন, এবং ট্রাম্পও তাদের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত বলে মনে হচ্ছে। তবে এমন সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার মধ্যকার সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং দাম আরও এক ধাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়া, সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এবং লোহিত সাগরের নৌপথ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, সার ও খাদ্য সরবরাহে বড় ধস নেমেছে। গত বছরের তুলনায় সৌদির অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, এলএনজি রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ কাতারের অর্থনীতি এ বছর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। তেলের মজুত দ্রুত কমে আসছে, যা সামনে দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয় বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধও বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেন হামলা চালানোয় মস্কো এখন ভারত থেকে পেট্রোল ও ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেল শোধন করে রাশিয়া, ভারতের অবস্থান চতুর্থ। বিশ্বজুড়ে শোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দামে স্থিতিশীলতা এলেও সাধারণ পাম্পগুলোতে জ্বালানির দাম চড়াই থাকবে। তার ওপর মস্কো ও কিভ একে অপরের তেলবাহী জাহাজ ও গুদামে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সার্বভৌম ঋণসংকট
তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এরচেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিগুলোর বিপুল পরিমাণ ঋণ। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে এক আশঙ্কাজনক রেকর্ড গড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম মার্কিন সরকারের মোট ঋণ দেশটির পুরো জিডিপির আকারকেও ছাড়িয়ে গেল। আইএমএফের হিসেবে, বর্তমানে আমেরিকার ঋণ ও জিডিপির অনুপাত ১২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। যে গতিতে এই ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, তা দেখে চিন্তিত অর্থনীতিবিদরা। শুধু এই ঋণের সুদ মেটাতেই মার্কিন সরকারকে বছরে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার গুনতে হচ্ছে।
কেবল যুক্তরাষ্ট্র একাই ঋণে জর্জরিত নয়। জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ২০৪ শতাংশ, চীন ১০৬ শতাংশ, ফ্রান্স ১১০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্য ১০৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ভারতের ৮৩ শতাংশ তুলনামূলক কিছুটা কম হলেও চিন্তার বাইরে নয়। তবে আমেরিকার এই পর্বতসম ঋণ বাকি বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, কারণ বিশ্বজুড়ে লেনদেনের মূল ভিত্তিই হলো মার্কিন ডলার। এ কারণেই সারা বিশ্বে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বন্ড বিক্রি করে দিচ্ছেন।
গত মাসে ইয়েল্ড ৫ শতাংশে পৌঁছালে পরিস্থিতি সামলাতে মার্কিন সরকার নিজেই বন্ড কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেই স্বস্তি টিকে ছিল মাত্র এক দিন! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইয়েল্ড আবার বাড়তে শুরু করে, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, বিনিয়োগকারীরা মার্কিন অর্থনীতির ওপর ভরসা করতে পারছেন না। বন্ডের বাজারে মন্দা নামলে পুরো অর্থনীতিতেই তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সব ধরনের ঋণ পাওয়া কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদের হার এক বছরের মধ্যে প্রথমবার ৭ শতাংশে উঠে গেছে। নিত্যপণ্যের দামও আকাশছোঁয়া। এনবিসি নিউজের এক সমীক্ষা বলছে, নভেম্বরে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ৫৫ শতাংশ ভোটার মনে করছেন ট্রাম্পের নীতি অর্থনীতিকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে। তার জনপ্রিয়তার পারদ এখন নেমে এসেছে ৪১ শতাংশে; যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাকসের তথ্যমতে, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোতে মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন বা ১০০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে; যার মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই বিনিয়োগ হচ্ছে ৫৮১ বিলিয়ন ডলার। জেপি মরগানের হিসেবে এই সংখ্যাটা আরও বড়, প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এত বিশাল অঙ্কের টাকা ঢালার পরও আমেরিকার ২ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এআই খাতের অবদান ছিল মাত্র ০.৪৭ শতাংশ। অথচ শেয়ার বাজারের ‘এস অ্যান্ড পি ৫০০’ সূচকের মোট মূল্যের প্রায় অর্ধেকই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে এআই-সংক্রান্ত ৪১টি কোম্পানি। এই সূচকটি এ বছর ১৮ শতাংশ বাড়লেও, মূল সত্যিটা হলো আমেরিকান অর্থনীতির বাকি খাতগুলোর অবস্থা মোটেও ভালো নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের এই উল্লম্ফন সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে এক অভূতপূর্ব গতি এনে দিয়েছে। এআই খাতে নেতৃত্ব দেওয়া এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের মুনাফার প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। কিন্তু বিনিয়োগের এই জোয়ার নিয়ে উদ্বিগ্ন আর্থিক বিশ্লেষকেরা। মূল্য-আয়ের আনুপাতিক হার নির্দেশক ‘ক্যাপ রেশিও’ বেড়ে এখন ২০০০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালেই সেই বহুল আলোচিত ‘ডটকম বাবলের’ পতন ঘটেছিল। এই উচ্চ অনুপাত নির্দেশ করে যে, অর্জিত মুনাফার তুলনায় মার্কিন পুঁজিবাজারের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে রয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের প্রধান বাজার বিশ্লেষক জন হিগিনস এক প্রতিবেদনে বলেছেন, আমরা যে এআই বাবলের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, তার সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদি ২০০০ সালের ডটকম ট্র্যাজেডির মতো একই পরিণতি হয় এই এআই বাবলের, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে বহু বিনিয়োগকারীর জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।
এআই বাবল যদি কোনোমতে টিকেও যায়, তবুও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরেক মহা-বিপদ অপেক্ষা করছে প্রকৃতিতে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্লাইমেট ইম্প্যাক্ট ল্যাব’-এর এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ মারা যেতে পারে। এর সবচেয়ে বড় শিকার হবে আফ্রিকা। ভারতেও ১৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) আগেই সতর্ক করেছিল যে এক শক্তিশালী এল নিনো বন্যা, খরা ও তীব্র দাবদাহ বয়ে আনবে। ভারতে এ বছর ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১৯৯৭ সালের এল নিনোয় ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। এবারেরটি আরও বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।







