
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সংকট মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ।
‘জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক না থাকলেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঠুনকো অজুহাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সরকারের জনবিচ্ছিন্নতার জ্বলন্ত প্রমাণ। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না করলে ইসলামী আন্দোলন কঠোর আন্দোলনে যাবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সরকারের প্রজ্ঞাপনে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর কথা জানানো হয়। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, সরকার সাত মাসের ব্যবধানে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। দাম বাড়ানোর কারণে তেলের সঙ্গে সম্পর্কিত অসাধু চক্র জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে শুরু করে জীবনযাপনের প্রায় সব স্তরেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ চলমান থাকার পরও গত এক সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গতকাল ও আজ তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এরপরও কাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।
নগর সভাপতি আরও বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরেছে। শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতেই থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, সরকার ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দায় এড়াতে চায় বলে মনে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অথচ তাদের সময়ে জ্বালানির দাম ও সংকট এতটা প্রকট ছিল না।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের সামনে এসে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সংকট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার পরিণতি আগের সরকারের পতন থেকে দেখে নেওয়া উচিত। স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হতে বেশি সময় লাগবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নগর দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নাজিমুদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম, নগর সহসভাপতি আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, মাওলানা নিজামুদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এসব জ্বালানি যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।







