
রংপুরের পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন হাট-বাজারে জবাইখানা/কসাইখানায় পশু জবাইয়ের পূর্বে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। অ্যানথ্রাক্স/তড়কা সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, পথসভা কর্মসূচি চলমান রেখেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
জানা যায়, গত জুন-জুলাই মাসে উপজেলায় শতাধিক মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিলে নড়েচড়ে বসে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এরইমধ্যে উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয় কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ এখনও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে ‘আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি’ স্লোগানকে সামনে রেখে পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উপজেলার ৮টি স্পটে পশু জবাইয়ের পূর্বে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সুস্থ্যতা নিশ্চিত হয়ে জবাই করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, পীরগাছায় ১ লাখ ৬৩ হাজার গরু, ১ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল ও ১২০০ ভেড়া আছে। এই অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এরইমধ্যে ৯টি মেডিকেল টিমে ৫৩ হাজার ২৭টি গরুকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে এবং আরও ৫০ হাজারের চাহিদা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অ্যানথ্রাক্সসহ অন্যান্য প্রাণঘাতী জুনোটিক রোগ প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচিও শুরু হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে সচেতনতামূলক ৫ হাজার লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, পথসভা কর্মসূচি চলমান রেখেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। কসাই/মাংস বিক্রেতাদের নিয়ে রোগ প্রতিরোধে জরুরি মতবিনিময় সভা করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার পীরগাছা উপজেলা ভিজিট করে বিভিন্ন ধরনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একরামুল হক।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, আমাদের ঊর্ধ্বতন স্যারদের পরামর্শে ভেটেরিনারি বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে এখন অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে চালু হলো গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
অন্য এক প্রশ্নে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে অনেকই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। আমরা প্রায় ৬০ হাজার গরুকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়েছি। উপজেলার সব গরুকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় না নেয়া পর্যন্ত দুশ্চিন্তা আছে তবে আতঙ্কিত হওয়ার মতো নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ বিভাগ আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন তাদের নিকট অ্যানথ্রাক্সের পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুদ আছে।’






