পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘সবার জন্য দুর্যোগ-সহনশীল, পরিবেশ বান্ধব ও বিকেন্দ্রীকৃত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বসতি কোনো বিলাসিতা নয়, এটিকে একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শুধু শহরাঞ্চলে নয়, গ্রামাঞ্চলেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে বসতি গড়ে তুলতে হবে।’
আজ (সোমবার) রাজধানীর চীনমৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ পরামর্শ প্রদান করেন।সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ বিকেন্দ্রীকরণের জন্য পার্টনারশিপে যেতে পারে। আমার পরামর্শ হলো পুরো দেশে আপনাকে ফ্ল্যাট বানাতে হবে না, আপনারা ব্যাংকের সঙ্গে, লোকাল গভর্নমেন্টের সঙ্গে, লোকাল অথরিটির সঙ্গে পার্টনারশিপে যান। এ ছাড়া রিহ্যাবের সঙ্গেও পার্টনারশিপের কথা ভাবতে পারেন, রিহ্যাব শুধু ঢাকা শহরেই ফ্ল্যাট বানাবে না, তাদের সাথে পার্টনারশিপে গিয়ে পুরো দেশেই ফ্ল্যাট বানানোর কাজ করতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এক বছর একটি কাজ করে দেখতে পারি, এ বছর যারা নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছেন…. ডিসিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি তাদের জায়গাতেই কিভাবে তাদের আবার পুনর্বাসন করা যায়।’
তিনি আরোও বলেন,‘বস্তিতে কোনো বসতি নয়, মানুষ যেন বস্তিবাসী না হয় সেই উদ্যোগটা আমরা নিতে পারি। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ম্যান্ডেটটা এভাবে চিন্তা করা যায় কি না— যেখানেই সমস্যা হবে সেখানেই আপনারা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায়, স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায়, ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সেখানেই পুনর্বাসন করুন। আমাদের বিপুল পরিমাণে খাস জমি কিন্তু দখল এবং অব্যবহৃত রয়ে গেছে। এই খাস জমিগুলোতে আপনারা পার্টনারশিপের মাধ্যমে বাসস্থানের প্রকল্পগুলো করতে পারেন কি না।’
আলোচনা সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘উপকূলীয় শহরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত তীব্র আকারে প্রকাশ পাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা জনজীবন, কৃষি এবং নগর অবকাঠামোকে গভীর সংকটে ফেলে দিচ্ছে। এসকল সমস্যা সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা।’
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার জন্য আমাদের ভূমির সঠিক ব্যবহার, গণপরিবহন ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা এবং নগর সেবায় আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবহার বাড়ানো।’
গণপূর্ত উপদেষ্টা আরোও বলেন, ‘পরিকল্পিত নগরায়ণ শুধুমাত্র অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। আমরা যদি সমন্বিতভাবে ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করি, তবে বাংলাদেশের নগরগুলোর বর্তমান সংকটসমূহ মোকাবেলা করে এগুলোকে আমরা আধুনিক, টেকসই ও বসবাসযোগ্য নগর রূপে গড়ে তুলতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন—রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, গৃহায়ণ অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম, রিহ্যাব সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।






