‘টক জাতীয় ছোট ফল জলপাই দেখলেই জিভে জল আসে!’ কথাগুলো বলছিলেন হাটে জলপাই কিনতে আসা রফিক মন্ডল। তিনি জানান, ফলটিতে ভিটামিন, মিনারেলসহ ভেষজ উপাদান, খাদ্যআঁশ, আয়রন, কপার, ভিটামিন-ই, ফেনোলিক উপাদান, অলিক অ্যাসিড এবং বিভিন্ন প্রকারের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে।
এই ফল শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই সাহায্য করে না, একই সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
এতো সব উপকারী একটি ফলটি দেশে বাণিজ্যিক চাষাবাদে ছিল অবহেলিত থাকলেও ধীরে ধীরে শুরু করছেন চাষ, আর বাড়ছে তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।
তাই সিরাজগঞ্জের বাগবাটিতে জলপাইয়ের মৌসুম শুরুতেই জমে উঠেছে ফলটি বিক্রির হাট। এই টক ফলটি দিয়ে মুখরোচক আচার বানিয়ে সারা বছর খেতে পছন্দ করেন অনেকেই।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন সকালে অটোরিকশা, ভ্যান ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়ে আসছে বস্তাবোঝাই জলপাই। মাটিতে বিছানো পলিথিনে ঢেলে স্তুপ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এখান থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা জলপাই কিনে ওজন করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ।
এমন চিত্র প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেখা যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি হাটে। মৌসুম জুড়ে জমজমাট হাটে প্রতিদিন জলপাই বিক্রি করতে আসেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও জমে উঠেছে এই জলপাইয়ের হাট। এখানে দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ মেট্রিক টন জলপাই বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা।
জানা যায়, উপজেলার বাগবাটিতে একমাত্র জলপাইয়ের হাটে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ টাকার জলপাই কেনাবেচা হয়। এই জলপাইয়ের হাটে বাগবাটি ইউনিয়নের ঘোড়াচড়া, কানগাতি, হরিনা বাগবাটি, খাগা, সুবর্ণগাতি, ফুলকোচা ও বাক্ষ্রমবাগ গ্রাম থেকে জলপাই নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি, পাবনা, নাটোর, টাঙ্গাইল, বগুড়া ও ঢাকার পাইকারসহ দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখান থেকে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। জলপাই গাছের তেমন পরিচর্যা করতে হয় না, দিতে হয় না কোনো প্রকার কীটনাশক। তাই জলপাই চাষিরা সহজেই লাভের মুখ দেখতে পান। সেজন্য বাড়ছে জলপাইয়ের চাষ।
স্থানীয় জলপাইয়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার বাগবাটিতে নিয়মিত হাট বসে। কিন্তু মৌসুম শুরু হওয়ায় প্রতিদিনই বসে জলপাইয়ের হাট। এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ফলন একটু কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
আরেক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, জলপাই গাছে মুকুল আসার পরই মালিকদের গাছ থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা গাছ ক্রয় করেন। আকার ভেদে প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত জলপাই ধরে। পাইকারি দরে প্রতি মণ কেনা হয় ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। এই জলপাই বাজারে প্রতি মন ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন এই হাটে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জলপাই বেচাকেনা হয়।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই তিন মাস জলপাইয়ের মৌসুম। নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ টক জাতীয় এই ফল সরাসরি খাওয়া গেলেও আচার হিসেবেই বেশি জনপ্রিয়। তিনি বলেন জলপাই গাছের তেমন পরিচর্যা করতে হয়না। এই ফলটি কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস।
তিনি আরো জানান, জেলায় ফলটির উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। এ বছর শুধুমাত্র সদর উপজেলাতেই ৫০ হেক্টর জমিতে জলপাইয়ের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১০ মেট্রিক টন







