মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার ৯ বছর পূর্ণ হতে চলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও মানবিক সহায়তা অংশীদাররা। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে নতুন নতুন সংকট তৈরি হলেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে যেন ভুলে যাওয়া না হয়।
আজ জেনেভার পালে দে নাসিওঁ-এ অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র বাবর বালোচ এই আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকটের কারণে তহবিল সংকুচিত হচ্ছে, যা শরণার্থীদের মৌলিক সেবাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের যৌথ মানবিক সহায়তার আবেদন করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে, ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে এবারের আবেদনটি গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
প্রেস রিলিজ থেকে জানা যায়, বর্তমানে এই আপিলের মাত্র ৬০ শতাংশ অর্থ সংস্থান সম্ভব হয়েছে। পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে ক্যাম্পের ভেতরের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং ২০২৪ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নতুন শরণার্থীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।
ইউএনএইচসিআর জানায়, মিয়ানমারে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। ফলে মরিয়া হয়ে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সাল ছিল এ ধরনের সমুদ্রযাত্রার জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর, যেখানে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদে ত্রাণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীল করার সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে এবং মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।








