
স্বর্ণের দাম আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সামান্য বেড়েছে। তবে এখনও সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দামের কাছাকাছি অবস্থান করছে মূল্যবান এই ধাতুটি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্বর্ণের দামে চাপ অব্যাহত রয়েছে। খবর রয়টার্সের।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় বিকাল ৪টা ৭ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩০ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে সোমবার স্বর্ণের দাম গত ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যৎ সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার তাহির বলেন, স্বর্ণের দামের ওপর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে তেলের দাম ও সুদের হার আরও বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণের ওপর চাপ আরও বাড়বে। তবে পরিস্থিতির উত্তেজনা কমলে স্বর্ণের ওপর সেই চাপও কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন বলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসের মতো তেলের দামও বেড়েছে। তেলের দাম বাড়লে পণ্য ও সেবার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যায়। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পথে যেতে পারে।
সুদের হার বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদভিত্তিক সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগেও এই সম্ভাবনা ছিল ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
ফেডের গভর্নর লিসা কুক বলেছেন, আগামী কয়েক মাসেও মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বাড়তি চাহিদা এবং তেলের উচ্চ দাম এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা, চাকরির শূন্য পদ, বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান, ব্যক্তিগত ভোগব্যয় এবং কৃষিখাতের বাইরে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজার বিশ্লেষক তাহিরের মতে, মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকা এবং অর্থনীতি শক্তিশালী থাকলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম আরও কমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২০৫ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।







