কৃষি বিভাগ, আইইউবিএটিব
বহুবর্ষজীবী ধানের বিশেষত্ব কী?
বহুবর্ষজীবী ধানের বিশেষত্ব হলো এটি প্রতি বছর বীজ রোপণের প্রয়োজন ছাড়াই দীর্ঘকাল চাষযোগ্য। অর্থাৎ একবার রোপণ করলে একাধিক বছর একই জমি থেকে ধান উৎপাদন করা যায়। এটি কৃষকের খরচ কমায়, মাটির উর্বরতা বজায় রাখে এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে সহায়ক।
গবেষণার শুরুতে কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল?
প্রথমদিকে বহুবর্ষজীবী ধান চাষাবাদে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল জাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, যাতে বারবার ফলন দিতে সক্ষম হয় এবং কোনো রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এছাড়া স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া এবং কৃষকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণযোগ্য করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
বহুবর্ষজীবী ধান সব অঞ্চলে ও পরিবেশে চাষাবাদ সম্ভব?
প্রায় সব অঞ্চলে সম্ভব হলেও উচ্চভূমিই বেশি উপযুক্ত। যেখানে মাটি খুব আর্দ্র বা বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি জমে থাকে, সেখানে এ ধান চাষাবাদ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবে অধিকাংশ অঞ্চলে বিশেষ করে যেখানে খরা বা মাটির উর্বরতা কম, সেখানে বহুবর্ষজীবী ধান চাষের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
পাঁচবার ফলন দেয়া ধান পঞ্চব্রীহি ও অন্য উচ্চফলনশীল জাতের সঙ্গে বহুবর্ষজীবী ধানের পার্থক্য কী কী?
বহুবর্ষজীবী ধান পঞ্চব্রীহি ধানের থেকে ভিন্ন, কারণ পঞ্চব্রীহি কাণ্ড থেকে পুনরায় গজানো ফসল হিসেবে বৃদ্ধি পায়, যেখানে বহুবর্ষজীবী ধান ভূগর্ভস্থ কাণ্ড থেকে পুনর্জীবিত হয়ে প্রতি মৌসুমে নতুন গাছ উৎপন্ন করে। আমাদের স্থানীয় এক-মৌসুমের উচ্চফলনশীল জাতের তুলনায় বহুবর্ষজীবী ধান একবার রোপণ করার পরও বছর বছর ধারাবাহিকভাবে ফলন দিতে সক্ষম। বহুবর্ষজীবী ধান কম খরচে উৎপাদন সম্ভব। বার্ষিক ধানের মতো প্রতি বছর বীজ লাগানো লাগে না, ফলে বীজ ও শ্রম খরচ কমে। একবার রোপণ করলে একাধিক বছর ফলন পাওয়া যায়। ফলে চাষের সময় ও শ্রম বাঁচে। ফলন প্রথম বছর কিছুটা কম হতে পারে, কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোয় এটি স্থিতিশীল হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ফলন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, যা বার্ষিক জাতের তুলনায় অধিক কার্যকর।
সারা দেশে মাঠ পর্যায়ে বৃহৎ পরিসরে যেতে কী কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে?
নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কৃষকরা যথেষ্ট অবগত নন, তাই প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা প্রয়োজন। সেচ, সার ও রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন জাতের চাহিদা ও বাজার মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের জন্য সরকারি নীতিসহায়তা প্রয়োজন।
সূত্র: বণিকবার্তা








