
ফি ফি আইল্যান্ডে দুই দিন কাটানোর পর এবার গন্তব্য ক্রাবি। আগের দিন স্পিটবোর্ডে মায়া বে, বাম্বু আইল্যান্ড ও মাঙ্কি বিচসহ কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখেছি। সমুদ্রের নীল পানি আর পাহাড়ঘেরা দ্বীপের সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছে। এবার দ্বীপ ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ফেরার পালা।
দুপুরের দিকে ক্রাবিতে পৌঁছালাম। ফেরি থেকে নেমে হোটেলে গেলাম। দীর্ঘ কয়েক দিনের যাত্রায় কিছুটা বিশ্রাম দরকার ছিল। হোটেলে কিছুটা সময় কাটিয়ে বিকেলের দিকে বের হলাম আও নাং বিচের উদ্দেশে।
আও নাং বিচে বিকেলের সময়
আও নাং বিচে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। সমুদ্রের ধারে হাঁটা, চারপাশের দৃশ্য দেখা আর বিকেলের সময়টা উপভোগ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। ভ্রমণে প্রতিদিন নতুন জায়গা দেখা যেমন আনন্দের, তেমনি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই একটি সৈকতের পাশে কিছুক্ষণ বসে থাকাও আলাদা অভিজ্ঞতা।
আও নাংয়ের আশপাশে পাহাড় আর সমুদ্রের উপস্থিতি জায়গাটিকে অন্য রকম সৌন্দর্য দিয়েছে। এখান থেকে বিভিন্ন দ্বীপে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা আছে। যারা ক্রাবিতে কয়েক দিন থাকবেন, তারা চাইলে দ্বীপভ্রমণ, সৈকতে সময় কাটানো কিংবা স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে আমাদের হাতে সময় কম ছিল। তাই এই সফরে আও নাংয়ের আশপাশেই সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।

সন্ধ্যায় নাইট মার্কেটের পথে
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই গেলাম কাছের নাইট মার্কেটে। বিদেশে গেলে স্থানীয় খাবার চেখে দেখার আগ্রহ আমার সব সময়ই থাকে। কারণ কোনো জায়গাকে শুধু দর্শনীয় স্থান দিয়ে চেনা যায় না। সেখানকার খাবার, বাজার আর মানুষের দৈনন্দিন জীবনও ভ্রমণের অভিজ্ঞতার অংশ।
নাইট মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান ছিল। ঘুরে ঘুরে খাবার দেখলাম, কয়েকটি স্থানীয় খাবারও খেলাম। পরিবেশ ছিল প্রাণবন্ত। আমার কাছে অতিরিক্ত কোলাহলপূর্ণ মনে হয়নি। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিও চোখে পড়েছে। সন্ধ্যায় খাবার খেতে খেতে নাইট মার্কেট ঘুরে দেখার মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে। বিশেষ করে নতুন জায়গায় স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভ্রমণের স্মৃতিতে থেকে যায়।
থাইল্যান্ডের খাবারের মধ্যে ঝাল, টক ও মিষ্টি স্বাদের নানা সমন্বয় দেখা যায়। তবে সব খাবার সবার পছন্দ হবে এমন নয়। যারা হালাল খাবার খেতে চান, তাদের খাবারের উপকরণ ও প্রস্তুতপ্রণালি সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় হালাল খাবার খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। ক্রাবিতে প্রচুর হালাল খাবারের দোকান পেয়েছি।
শান্ত পরিবেশে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা
ক্রাবিতে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে জায়গাটির শান্ত পরিবেশ। ফুকেটের পাতং বিচ ও ফি ফি আইল্যান্ড দেখার পর আও নাংয়ে এসে পরিবেশের এই পার্থক্য বেশ স্পষ্ট মনে হয়েছে। এখানে ঘোরাঘুরির সময় আমার কাছে কোলাহল ও যানবাহনের হর্ন তুলনামূলক কম মনে হয়েছে। সমুদ্রের কাছাকাছি সময় কাটানো এবং সন্ধ্যায় বাজার ঘুরে বেড়ানো — দুটিই বেশ স্বস্তিদায়ক ছিল।
এলাকার কিছু অংশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিও চোখে পড়েছে। ফলে খাবার ও স্থানীয় জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি আবহ পাওয়া যায়। তবে ক্রাবি একটি বড় প্রদেশ। এর সব এলাকার পরিবেশ এক রকম নয়। আমার এই পর্যবেক্ষণ মূলত আও নাংয়ে অল্প সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে।
যারা ভ্রমণে শুধু ব্যস্ত শহর, রাতের জীবন কিংবা কেনাকাটা চান না তাদের কাছে ক্রাবি ভালো লাগতে পারে। এখানে সমুদ্রের পাশে সময় কাটানো, পাহাড়ঘেরা দৃশ্য দেখা, স্থানীয় খাবার চেখে দেখা এবং তুলনামূলক ধীরগতির পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও আও নাং বিবেচনায় রাখা যায়।

ক্রাবিতে অল্প সময় থাকলেও আগে থেকে পরিকল্পনা করে নিলে ভ্রমণ উপভোগ করা সহজ হয়। ফি ফি থেকে ফেরিতে পৌঁছানোর পর হোটেলে যাওয়ার ব্যবস্থা, লাগেজ রাখার সুযোগ এবং চেক-ইনের সময় জেনে রাখা ভালো। দুপুরে পৌঁছে বিকেলে আও নাং বিচ ও সন্ধ্যায় নাইট মার্কেট ঘুরে দেখার মতো সহজ পরিকল্পনাও করা যায়।
আরও সময় থাকলে আশপাশের দ্বীপ বা প্রাকৃতিক আকর্ষণ ঘুরে দেখার জন্য আলাদা দিন রাখা যেতে পারে। তবে নৌভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, যাত্রার সময় ও প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো আগে নিশ্চিত করা জরুরি। খাবারের জন্যও কিছুটা বাজেট আলাদা রাখুন। বাজারের খাবার, রেস্তোরাঁ ও পর্যটন এলাকার দোকানের দাম এক রকম নাও হতে পারে।
আমাদের ক্রাবি সফর ছিল সংক্ষিপ্ত। তবু আও নাংয়ের সৈকত, সন্ধ্যার বাজার আর স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতা ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফুকেটের ব্যস্ততা আর ফি ফির দ্বীপভ্রমণের পর ক্রাবিতে এসে কিছুটা ধীরগতিতে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম।
পরদিন সকালে আমাদের গন্তব্য ব্যাংকক। এবার সমুদ্রসৈকত আর দ্বীপের গল্প পেছনে রেখে ফিরতে হবে থাইল্যান্ডের ব্যস্ত রাজধানীতে। সেখানে অপেক্ষা করছে কেনাকাটা, আইকনসিয়াম আর চায়নাটাউনের সন্ধ্যা।

ক্রাবিতে এক রাতের হোটেল ভাড়া ছিল ২ হাজার ৫৭০ টাকা। ফি ফি আইল্যান্ড থেকে ক্রাবি যাওয়ার ফেরি ভাড়া ছিল জনপ্রতি ২ হাজার টাকা। এই টিকিটের সঙ্গে ফেরিঘাট থেকে হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ক্রাবিতে হোটেল থেকে আও নাং বিচ ও নাইট মার্কেটে যাতায়াত করেছি হেঁটে। ফলে এ দুই জায়গায় যাতায়াতে আলাদা কোনো খরচ হয়নি। হোটেল থেকে বিমানবন্দরে যেতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। খাবারের পেছনে জনপ্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল।
পরদিন ক্রাবি থেকে ব্যাংককে যাওয়ার বিমানভাড়া দুইজনের জন্য ছিল ৯ হাজার ৫৫ টাকা।







