চায়না দুয়ারি জাল অবৈধ ঘোষণা করা হলেও তা মানছে না কেউ। ডোবা জলাশয়ে বর্ষা মৌসুমে ছোট-বড় সকল জাতের মাছ ছুটে চলে আকাবাকা পথে। হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে দেশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উজান মুখে পাল্লা দিয়ে চলতে গেলেই বাধা দিচ্ছে মরন এই জাল। আর সেই জালে মা পোনাসহ সকল ধরনের মাছ আটকের ফলে মাছের প্রজননও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই জালের হাত থেকে মাছ রক্ষা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা মৎস্য অফিস। তারই ধারাবাহিকতায় গত রোববার উপজেলায় ১৩টি স্পষ্ট থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দামের কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কাওছার হোসেন জানান, জব্দ কারেন্ট জালগুলো আগুনে পুড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে অবৈধ কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারি জাল ধারাবাহিকভাবে আটক অভিযান চলমান রয়েছে।
জানাযায়, রংপুরের পীরগঞ্জের নদী নালা খালবিল এখন অসংখ্য চায়না দুয়ারি জালের দখলে। এ জাল দিয়ে অবাধে আটক করা হচ্ছে ছোট বড়ো সবধরনের মাছ। যে কারণে হাটবাজারগুলোতে ছোট মাছর দেখা মিলছে কম।
স্থানীয়রা বলছেন, কারেন্ট জাল বা চায়না দুয়ারি জাল আটক নিয়ে তেমন কোন বাধা নেই উপজেলা মৎস্য বিভাগের। উপজেলার হাট-বাজার গুলোতে প্রকাশে বিক্রি করা হচ্ছে এই জাল। এলাকার লোকজন দিনে-রাতে মাছ শিকার করছে অবৈধ এই জাল গুলো দিয়ে। মাছ শিকারের নতুন ফাদ চায়না দুয়ারি জাল সব খানেই ব্যাপকভাবে চড়িয়ে গেছে। এতে করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিলুপ্তির শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
সোমবার সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, জেলেসহ সাধারণ মানুষ এই জালে মাছ শিকার করছে। এই ফাঁদ বসালে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়ে জালের ছিদ্র ছোট হওয়ায় ছোট-বড় কোনো মাছ বের হওয়ার সুযোগ থাকেনা। লোহার রডের গোলাকার বা চতুর্ভুজ আকৃতির কাঠামোর চারপাশে চায়না জাল দিয়ে ঘিরে এই চায়না দুয়ারি নতুন ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। এলাকার হাটবাজারে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা বিক্রি করা হচ্ছে হরদমই , যেগুলো চায়না দুয়ারি দিয়ে ধরা বলে স্থানীয়রা দাবি করছে।
উপজেলার চতরা ইউনিয়নের মৎস্যজীবি মাফু মন্ডল বলেন, পানির উভয় দিক থেকে ছুটে চলা যেকোনো মাছ সহজেই এতে আটকা পড়ে। এর ভিতর ছোট-বড় মাছ ঢুকলে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসনের চোখের সামনে এভাবে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ আটক করা হচ্ছে নিরন্তর।
উপজেলার সচেতন মহলের লোকজন বলছেন, চায়না দুয়ারি জাল এসে আমাদের দেশীয় মাছের বংশ শেষ করে দিচ্ছে। এই জালের কারনে দেশীয় মাছ ক্রমেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। শুধু দেশি জাতীয় ছোট মাছ নয় বরং এই জালে আটকা পড়ে সকল প্রজাতির জলজ জীব। স্বল্প ব্যয়ে এবং স্বল্প পরিশ্রমে অধিক আয়ের উৎস হওয়ায় মাছ আরোহীদের কাছে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি। ক্ষুদ্রাকৃতির কোনো মাছের পক্ষেও সম্ভব নয় এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার। এই জাল দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলে আসলেও প্রশাসনের ভূমিকা বা নজরদারির অভাব । আর এই অবৈধ জাল গুলো থেকে রেনু পোনা বাঁচতে চায়।






