
বাংলাদেশে টমেটো চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শীতকালীন সবজি হিসেবে টমেটোর চাহিদা সারা দেশেই বেশি। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করলে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে অনেক কৃষক বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে টমেটো চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুতি:
টমেটো চাষের জন্য দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত। জমি উঁচু হলে পানি নিষ্কাশন সহজ হয় এবং রোগবালাই কম দেখা দেয়। জমি ভালোভাবে চাষ করে তাতে জৈবসার মিশিয়ে নিতে হবে। এতে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
টমেটোর বীজ বপন ও চারা তৈরি:
মানসম্মত বীজ ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়। সাধারণত নার্সারিতে বীজ বপনের পর ২৫-৩০ দিনে চারা মূল জমিতে রোপণের জন্য প্রস্তুত হয়। চারা যখন ৫-৬টি পাতা ধারণ করবে তখন রোপণ করাই উত্তম।
সার ব্যবস্থাপনা:
প্রতি শতকে ৮-১০ কেজি গোবর সার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি সঠিক পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে গোঁড়ায় সার কুপিয়ে দিলে গাছ মজবুত হয় এবং বেশি ফল ধরে।
টমেটো চাষে সেচ ও পরিচর্যা:
টমেটো গাছে নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। তবে জমিতে পানি জমে থাকলে শিকড় নষ্ট হতে পারে। তাই সেচে ভারসাম্য রাখতে হবে। পাশাপাশি গাছকে বাঁশ বা খুঁটির সাহায্যে বেঁধে দিলে ফল মাটিতে না লেগে নষ্ট হয় না এবং টমেটোর মান বজায় থাকে।
টমেটোর রোগবালাই প্রতিকার:
টমেটোর প্রধান রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে লেট ব্লাইট, ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ও ফল পচা। এ ধরনের রোগ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ফলন ও বাজারজাতকরণ:
রোপণের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে টমেটোতে ফল আসতে শুরু করে। ফল লালচে হলে সংগ্রহ করতে হবে। সময়মতো ফসল সংগ্রহ করলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে টমেটো চাষ করে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ভালো লাভবান হচ্ছেন।






