ঢাকার গুলশানের সায়মন ওভারসীজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সায়মন ওভারসিজ লিমিটেড জানায়, ‘এই মিথ্যা অভিযোগ ও মানহানিকর অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ব্যাখ্যা তলব নোটিশের জবাবে সায়মন ওভারসিজ লিমিটেড বিস্তারিত তথ্য, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়েটা বিএসপি(IATA BSP) রিপোর্ট, টিকিট কপি ও সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট দাখিল করে। সার্বিক বিষয়টি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযোগটি ছিল ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর।
মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে বলছে, সব দিক বিবেচনা করে অভিযোগটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সাইমন ওভারসিজ লিমিটেডকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে (বিমান মন্ত্রনালয় পত্র নং ৩০.০০.০০০০. ০০০. ০২৫.২৭.০০০৬.২৫-৮৭৭ তারিখ ১৪ই ডিসেম্বর ২০২৫ইং)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে,অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর ২০২৪-২০২৫ কমিটির মহাসচিব ছিলেন সায়মন ওভারসিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) আফসিয়া জান্নাত সালেহ। তার নেতৃত্বে এয়ার টিকিটের ভাড়া কৃত্রিমভাবে বাড়ানো ও বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা একটি চক্রের অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হলে, ক্ষুব্ধ একটি ‘সিন্ডিকেট’ চক্র সায়মন ওভারসিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর প্রচারণা শুরু করে।
সূত্র আরোও জানায়, ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুনামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের কর্পোরেট ট্রাভেল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সায়মন ওভারসিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে: ‘দেশের বাইরে এয়ার টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার’-এর অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করে।
এর আগে গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সায়মন ওভারসীজ মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠির জবাব দেয়। সেই সময় প্রতিষ্ঠানটির এমডি আসফিয়া জান্নাত সালেহ বলেন, মন্ত্রণালয়ে যে বা যারা এই অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যারা এয়ার টিকিট কালোবাজারি, মজুদ ও উচ্চমূল্যে টিকিট বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করেছি। এখন প্রতিহিংসা থেকেই তারা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইলে আমরা সেসব তথ্য–প্রমাণ দিয়ে যথাযথভাবে জবাব দিয়েছি।
ট্রাভেল ট্রেড বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এয়ার টিকিট সিন্ডিকেশন, নামবিহীন গ্রুপ বুকিং ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিহিংসামূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
তারা মনে করছেন, আসন্ন আটাব নির্বাচন ও ট্রেড সংস্কার কার্যক্রমকে ঘিরে এ ধরনের অপপ্রচার নতুন নয়। তারা এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রকৃত সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান।






