
বালাইনাশক উৎপাদকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (বামা)-এর ট্রেড অর্গানাইজেশন (টিও) লাইসেন্স বাতিল এবং আমদানিকারকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশন’ (বিসিপিএ)-এর সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ফলে বামা আগের মতো বৈধ ট্রেড অর্গানাইজেশন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত উল্লেখ করে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।
সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এম. এ. মান্নান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বামার তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর এক স্মারকের মাধ্যমে বামার টিও লাইসেন্স বাতিল করে সংগঠনটিকে বিসিপিএর সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে একপেশে ও বেআইনি দাবি করে হাইকোর্টে রিট করে বামা।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত লাইসেন্স বাতিলের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে বামার টিও লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ও বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
বামার আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সালেকুজ্জামান বলেন, লাইসেন্স বাতিলের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ফলে বামা আগের মতো বৈধ ট্রেড অর্গানাইজেশন হিসেবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৯ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বালাইনাশক খাতে বিসিপিএর সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ২৩০ জন হলেও বামার সদস্য মাত্র ২০ জন। দুটি সংগঠনের মূল লক্ষ্য অভিন্ন হওয়ায় একই খাতে একাধিক সংগঠন থাকায় আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের এক ছাতার নিচে আনার বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করে মন্ত্রণালয়।
তবে বামার অভিযোগ, শক্তিশালী আমদানিকারক গোষ্ঠীর প্রভাব ও চাপের কারণে মাত্র চার বছরের মাথায় তাদের টিও লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এক নয়। ফলে দুই পক্ষকে একই সংগঠনের আওতায় আনা হলে দেশীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বামার সভাপতি কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিসিপিএ মূলত আমদানিকারকদের স্বার্থরক্ষার সংগঠন। সংশ্লিষ্ট আইন পর্যালোচনা না করেই বামার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে প্রজ্ঞাপন জারির পর বিসিপিএ সভাপতি সাইফুজ্জামান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, দুটি সংগঠনের উদ্দেশ্য মূলত একই এবং বামার সদস্যরাও বিসিপিএর অন্তর্ভুক্ত। খাতের সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একসময় দেশের এগ্রোকেমিক্যাল খাত প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর ছিল। পরে স্থানীয় উদ্যোক্তারা কারখানা স্থাপন করে উৎপাদনে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বামাকে পৃথক টিও লাইসেন্স দেয়।
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত বামার টিও লাইসেন্স বাতিল ও বিসিপিএর সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। ফলে সংগঠনটি আগের মতো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।







