
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুতে বসবাস করেও কোরআন হিফজ করছে শিশু-কিশোররা। গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসিতে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা জড়ো হয়েছিল পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার আনন্দ উদযাপন করতে।
হাফেজদের গল্পও তাদের বসবাসের জায়গার মতোই কঠিন। তাদের একজন জানান, যুদ্ধে তিনি আহত হয়েছেন। রাস্তায় হাঁটার সময় তার কাছাকাছি একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে তিনি আহত হয়ে ৪৫ দিন হাসপাতালে ছিলেন। এর মধ্যে সাত দিন কাটাতে হয়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। কিন্তু সেই আঘাতও তাকে কোরআন হিফজের পথ থেকে থামাতে পারেনি। বাস্তুচ্যুতি, পানি সরবরাহের স্থান ও স্কুলের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেও তিনি হিফজ চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন করেন।
আরেক নারী হাফেজের গল্প আরও বেদনাদায়ক। ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি বাবা, মা ও ভাই-বোনদের হারান। পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে বেঁচে যান তিনি। তার বাবা তার সঙ্গে কোরআন হিফজের যাত্রা শুরু করেছিলেন। মেয়েকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।
পরিবার হারানোর পরও থেমে যাননি ওই তরুণী। তিনি জাইল আল-ওহি আল-কোরআনি নামের হিফজ ক্যাম্পে যোগ দেন এবং বাবার স্বপ্নকে মনে রেখে কোরআন মুখস্থ করতে থাকেন। তিনি বলেন, যে খতম তিনি সম্পন্ন করেছেন, তা বাবা, মা ও ভাই-বোনের রুহের উদ্দেশে উৎসর্গ করছেন। একই সঙ্গে হিফজের এই যাত্রায় পাশে থাকার জন্য চাচার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এক ছোট্ট শিশু দাঁড়িয়ে বলেছিল, আমি বড় হয়ে ওদের মতো হব।







