
‘কলা রুয়ে না কাটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’ অর্থাৎ কলার গাছ রোপণের পর পাতা না কাটলে ভলো ফলন পাওয়া যাবে। তাতে ভাত-কাপড়ের অভাব হবে না। ঠিক এ কথাটি মেনেই গোলজার হোসেন কলা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন বাগগারি পাড়ায় গোলজার হোসেন বিভিন্ন উপজেলায় ১১ বিঘা জমিতে কলা চাষ করে বছরে প্রায় কোটি টাকা আয় করে থাকেন।
তিনি মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা, জাত নির্বাচন এবং যত্নের সাথে কলা চাষ করা খুবই লাভজনক হতে পারে। এই ফসলটি বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য একটি ভালো আয়ের উৎস। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু কলা চাষের জন্য উপযোগী সবরি, সাগর, চাপা‘র মতো জনপ্রিয় জাতগুলো বেশি লাভ দেয়। মেহেরসাগরের মতো উন্নত জাতের কলা চাষ করে অনেক কৃষক ভালো আয় করছেন এবং এই চাষ কম খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম থাকায় লাভজনক।
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান বলেন,‘ভেড়ামারাতে তামাক চাষের প্রবণতা রয়েছে কৃষকদের মাঝে। আমরা নিয়মিত উদ্বুদ্ধকরন ও পরামর্শ করে যাচ্ছে এবং তারই ফলশ্রুতিতে বর্তমানে ভেড়ামারা উপজেলায় স্থায়ী ফল বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ফল চাষ করে তামাক চাষের পরিমাণ কমে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, গোলজার হোসেন ভেড়ামারা ও পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলা সহ আশেপাশে উপজেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ১১ বিঘা কলা চাষ করে থাকেন। উনি এই উপজেলায় একজন কৃষক হওয়া সত্ত্বেও উনি একজন প্রগতিশীল কৃষক। তামার চাষের থাবা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। গোলজার হোসেন একজন উপজেলার মডেল কৃষক। ’
উপজেলার কর্মকর্তারা সবাই বাগান স্থাপন থেকে শুরু করে রোগ বালাই, পোকামাকড় দমনসহ সকল বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে যেন কলা চাষ আরও জনপ্রিয় হয় সে বিষয়ে আমরা প্রকল্প হোক, রাজস্ব হোক সেখান থেকে আমরা সর্বদা সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
কলা চাষী গোলজার হোসেন বলেন, ১৯৮৯ সালে বিদেশ যাই। ১৯ বছর বিদেশ থাকার পর আর বিদেশ না গিয়ে কলা চাষ শুরু করি। প্রথমে আমি ১০ বিঘা জমিতে কলা চাষ শুরু করি। এখন বর্তমানে কলা চাষের পাশাপাশি ভুট্টা চাষ শুরু করেছি। আমি মূলত নদীর চরগুলোতে কলা চাষ করার জন্য বেছে নিয়েছি। যেখানে মানুষ সাধারণত চাষ করে না। গরু মহিষ চরে আমি সেইসব জমি লিজ নিয়ে কলা আবাদ শুরু করি। আমার মোট ১১ বিঘা কলাবাগানে আমরা বছর শেষে হিসাব করি প্রতিদিন তাতে ৪০-৫০ জন থেকে শুরু করে ১২০ পর্যন্ত লোক কাজ করে।






