বাংলাদেশ থেকে দক্ষ, আধা দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী নেবে ইরাক সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে যৌথ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীরা ইরাকে যাওয়ার আগেই কর্মসংস্থান চুক্তি সই করে যাবে।
ইরাকের কোন কোন খাতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে- সে বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস তথ্য সংগ্রহ করে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সমঝোতা চুক্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক এবং ইরাকের পক্ষে দেশের মিডিয়া, আরব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক(ডিজি) কাজিম আব্দুর রেজা খাইয়ুন আত-ওয়ানি সই করেন।
গত সোম ও মঙ্গলবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দুদিনের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নিরাপদ, নিয়মিত এবং সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনসহ জনশক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি; ইরাকে দক্ষ, আধা দক্ষ এবং অদক্ষ কর্মী প্রেরণের সম্ভাব্যতা এবং ইরাকে কর্মরত অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার হয়।
আলোচনার শেষে একটি ‘রেকর্ড অব ডিসকাশন’ স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষের সম্মতিতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরাক সরকার বাংলাদেশিদের সে দেশে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মী ভিসা দেয়ার মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি, নিরাপদ, নিয়মিত এবং সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইরাকি নিয়োগকর্তা প্রদত্ত চাহিদাপত্র বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়নের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে ইরাকে গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীরা সে দেশে গমণের পূর্বে কর্মসংস্থান চুক্তি সই করে যাবে। ইরাকের কোন কোন সেক্টরে কর্মীর চাহিদা রয়েছে- সে বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস তথ্য সংগ্রহপূর্বক কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ইরাকে কর্মরত অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে ইরাকি ডেলিগেশন ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার অনিয়মিত কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় নিয়মিতকরণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইরাক সরকারের নিকট অনুরোধপত্র পাঠাবে।
ইরাকে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করার লক্ষ্যে যৌথ কমিটি বছরে ন্যূনতম একবার বৈঠকে মিলিত হবে।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ইরাকি প্রতিনিধিদল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইরাকে গেছেন ৭৬ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৪৭ জন বাংলাদেশি ইরাকে গেছেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে রেকর্ড ১৯ হাজার ৫৬৭ জন ইরাকে গিয়েছিলেন। এরপর ২০১৯ সালে ৯ হাজার ২৬৬ জন ইরাকে পাড়ি জমান। তারপর থেকে ইরাকের ভিসা কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।
২০২০ সালে একজন বাংলাদেশিও ইরাক যেতে পারেননি। এরপরের বছরগুলোতেও হাতে গোনা কিছু মানুষ দেশটিতে পাড়ি জমান। নতুন এ চুক্তির ফলে আবারও দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলো।







