
আলু বিশ্বের তৃতীয় প্রধান খাদ্যশস্য (চাল ও গমের পরেই)। বাংলাদেশে আলু একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি ফসল, যা প্রায় সারা বছরই খাওয়া হয়। এটি শুধু দৈনন্দিন খাদ্যের চাহিদা মেটায় না, বরং কৃষকদের আয়ের একটি বড় উৎস হিসেবেও কাজ করে। শুধু গৃহস্থালীতে নয়, শিল্প কারখানায় (চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, স্ন্যাকস ইত্যাদি) ব্যবহার হয়। করে। শীতকালীন ফসল হিসেবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর আলু রোপণের উপযুক্ত সময়।
জমি নির্বাচন ও বীজ প্রস্তুতি:
আলু চাষের জন্য দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত। জমি আগাছামুক্ত করে জৈবসার মিশিয়ে নিতে হয়। বীজ হিসেবে মাঝারি আকারের (৩০–৫০ গ্রাম) রোগমুক্ত কন্দ ব্যবহার করতে হয়। বীজ কাটলে ছাই বা ফাঙ্গিসাইড দিয়ে শুকিয়ে রোপণ করলে রোগবালাই কম হয়।
সার, সেচ ও পরিচর্যা:
প্রতি বিঘায় প্রয়োজনীয় গোবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি ব্যবহার করা হয়। আলু গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ২–৩ বার সেচ প্রয়োজন। নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করলে ফলন ভালো হয়।
রোগবালাই প্রতিকার:
আলুর প্রধান রোগ লেট ব্লাইট, যা গাছ ও কন্দ নষ্ট করে। এছাড়া উকুন ও কন্দ পচা পোকার আক্রমণ দেখা যায়। প্রতিরোধে রোগমুক্ত বীজ, সঠিক সেচ ব্যবস্থা ও অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার জরুরি।
ফলন ও অর্থনৈতিক দিক:
রোপণের ৯০–১২০ দিনের মধ্যে আলু সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত প্রতি বিঘায় ৮০–১০০ মণ পর্যন্ত আলু উৎপাদন সম্ভব। এক বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয় প্রায় ৩২,০০০–৩৯,০০০ টাকা। বাজারদর কেজি প্রতি ২০ টাকা হলে আয় দাঁড়ায় ৬৪,০০০–৮০,০০০ টাকা। ফলে কৃষকরা নিট লাভ পান প্রায় ৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা।







